লকডাউনঃ মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারানসীতে ক্ষুধার্ত শিশুদের ঘাস খাওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

দেশ রাজ্য

নিউজডেস্ক এন এ নিউজ বাংলাঃ করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একুশ দিনের জন্য দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছেন। প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যাবস্থা না করেই এই ঘোষণা। দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে দৈনিক শ্রমিকরা ভুগছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তাদের গ্রাস করে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীও এর ব্যতিক্রম নয়।

বুধবার একদল শিশুকে একসাথে বসে স্থানীয় ভাষায় “আকরি” নামে একপ্রকার ঘাস খেতে দেখা গেছে। বারাণসী জেলার বাদগাঁও ব্লকের কইরিপুর গ্রামে মুছাহার বস্তিতে বাস করা মুছাহার সম্প্রদায়ের পাঁচ বছর বয়সী ছয় জন শিশু যাদের নাম রানি, পূজা, বিশাল, নীরহু, সনি ও গোল। এই শিশুরা হতাশা এবং ক্ষুধার কারণে গ্রামের গমের ক্ষেতে গবাদি পশুদের দেওয়া ঘাস খাচ্ছিল।

মুসাহার বস্তিতে যে দশটি পরিবার বাস করে, তাদের মধ্যে দশ বছরের কম বয়সী বারোজন শিশু রয়েছে। এই পরিবারগুলোর বেশীরভাগ উপার্জনকারী সদস্যরা দৈনন্দিন মজুরি,স্থানীয় নির্মাণ কারখানা এবং ইটভাটাতে কাজ করেন। লকডাউন কারণে শ্রমিকরা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আটকে আছেন। অন্যরা কোনও কাজ ছাড়াই ঘরে বসে আছেন বলে আশেপাশের বাসিন্দা এবং শিশুদের ঘাস খাওয়ার সাক্ষী রাজকুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন দি ওয়্যার সংবাদদাতাকে।

তিওয়ারি জানান যে ,গত সোমবার
জনতা কার্ফিউ ঘোষণার পর থেকেই ওই পরিবারের সন্তানরা ক্ষুধার্ত ছিল। তিওয়ারি বলেছিলেন, “সেইদিন সন্ধ্যার শেষ দিকে, গ্রামে একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পরে ত্রয়োদশ দিনের ‘তেহরভিন’ নামে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে তাদের পেট ভরেছিল। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। পরের দিন, তাদের ক্ষুধা আরও বেড়ে যায়। তাই মরিয়া হয়ে নিকটস্থ খামারগুলি থেকে আলু তুলে সিদ্ধ করে খেয়েছিল।
তবে বুধবার তাদের কাছে ঘাস খাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না যা সাধারণত গরুকে খেতে দেওয়া হত। এটি একটি বেদনাদায়ক দৃশ্য ছিল; তারা এই ঘাসকে নুন দিয়ে খাচ্ছিল। ”

তাদের ঘাস খাওয়ার ছবিটি বেনারসের স্থানীয় একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে, প্রশাসন হস্তক্ষেপ করেন।

বদগাঁও পুলিশ চৌকির স্টেশন অফিসার সঞ্জয় কুমার সিং বুধবার গ্রামে গিয়ে পরিবারটিকে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। দ্য ওয়্যার দ্বারা সংগ্রিহীত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের থানায় বা এসডিএম এর কাছে পৌঁছানো উচিত ছিল। প্রধানের কাছে যান। তিনি যদি আপনার কথায় কান না দেন, আপনি যদি সমস্যায় পড়ে থাকেন তবে আমাদের কাছে আসুন ”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সঞ্জয় কুমার সিংহের পাশাপাশি বারাণসীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষ রাজ শর্মা বুধবার গ্রামের প্রধান শিবরাজ যাদবের সহায়তায় গ্রামবাসীদের জন্য ১৫ কেজি রেশন সরবরাহ করেছিলেন।

গ্রামের একজন পুরুষ সদস্য বলেছিলেন, “আমরা পরের 21 দিনের জন্য প্রায় 15 কেজি মুদি পেয়েছি। তারা বলেছে পরের মাসে আমাদের প্রয়োজন হলে আবার সহায়তা করবে।”

গ্রামের এক মহিলা বলেছিলেন, “গত কয়েকদিন ধরে এখানকার লোকেরা ক্ষুধায় মরণাপন্ন। আমাদের বাচ্চারা খুব ক্ষুধার্ত ছিল। তাদের নুন এবং জল দিয়ে ঘাস খেতে হচ্ছিল। আমরা প্রধানের কাছে গিয়েছিলাম, তিনি আমাদের সহায়তা করেন নি।আমরা 3-4 দিন পরে কিছু খাবার পেয়েছি। আমরা জানি না যে এগুলিও এখানে সমস্ত বাড়ির জন্য যথেষ্ট হবে কি না? ”

ওই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক এবং বর্তমানে কংগ্রেসের সদস্য অজয় ​​রায় গ্রামবাসীদের কাছে কিছু ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ওই অঞ্চলের লোকেরা ২-৩ দিন ক্ষুধার্ত। যেহেতু আমি সেই অঞ্চল থেকে সাংসদ ছিলাম, আমার জানা আছে এই লকডাউনটি ইটভাটাতে কাজ করা মুসাহার সম্প্রদায়ের লোকদের কতটা খারাপ প্রভাব ফেলবে। এটি মাথায় রেখে আমি তিন দিনের ‘মূল্যবান খাবার’ সরবরাহ করেছি।

তিনি আরও বলেছিলেন যে এই অঞ্চলের লোকেরা কেবলমাত্র “স্যানিটাইজারস” এর মতো জিনিসগুলি সম্পর্কে স্বপ্ন দেখতে পারে, কারণ তাদের হাত ধোয়ার জন্য সাবানও নেই। তিনি জানান, খাবারের আইটেমের সাথে কয়েকটি সাবান ও পাঠিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রায় বলেন, “এটিই তার নির্বাচনী এলাকা। এমনকি তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে সম্বোধন করেছেন, কিন্তু তিনি কি দরিদ্রদের কথা উল্লেখ করেছেন? তিনি কি এই লোকদের জন্য কিছু করেছিলেন?