ঈদের দিনে আমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অসহায় মেধাবী ছাত্রকে সংবর্ধনা সিরাতের

জেলা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

বাপি আকুঞ্জি,এন এ নিউজ বাংলা,সন্দেশখালিঃউচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে ” কৃতি মেধাবী সম্মাননা” জানিয়ে চলেছে শিক্ষা সেবী সংগঠন সিরাত সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশনাল ট্রাস্ট (সিরাত)। সেই ট্র্যাডিশনকে জারি রেখে আজ পবিত্র ঈদের দিনে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে সিরাত পরিবারের একটি দল পৌঁছায় সন্দেশখালি থানার বেরমজুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুপখালি গ্রামের উচ্চমাধ্যমিকে কৃতি মেধাবী ছাত্র বিক্রমজিৎ দাসের বাড়িতে।

ফুলমণি আদর্শ বিদ্যামন্দির (উচ্চ মাধ্যমিক) বিদ্যালয়ের ছাত্র বিক্রমজিৎ দাস বরাবরই মেধাবী হিসেবেই পরিচিত স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে। এবারে উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর পাশের ৫০০ মধ্যে ৪৬৪।

সুন্দরবনের আইলা , বুলবুল ও আমফান বিধ্বস্ত সন্দেশখালি থানার অন্তর্গত বেরমজুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠপোল বাজার সন্নিকট দরিদ্র অসহায় পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক চাষী বিশ্বজিৎ দাসের একমাত্র পুত্র বিক্রমজিৎ দাস। বিক্রমজিতের একটি বোন আছে। সে দশম শ্রেণীতে পাঠরত ফুলমণি আদর্শ বিদ্যামন্দিরে। বিশ্বজিৎ দাসের নিজের মাত্র ১৪ কাঠা জমি। বাড়ি বলতে সামান্য মাটির কুঁড়েঘর। একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সহ পরিবারের লোকদের সঙ্গে থাকেন বিক্রমজিতের বাবা বিশ্বজিৎ দাস। বিক্রমজিতের বাবা বিশ্বজিৎ দাস চাষের কাজের পাশাপাশি পশু চিকিৎসাও করেন।

সংসারের অভাব অনটন থাকলেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় বাঁধা হতে দেয়নি বিশ্বজিৎ দাস । সন্দেশখালির এই মেধাবী বিক্রমজিৎ এবার সন্দেশখালি থানার সব স্কুলকে পিছিয়ে দিয়ে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চায় । কিন্তু প্রশ্ন , অর্থের অভাবে কতদূর যেতে পারবে এই মেধাবী কৃতী ছাত্র? তাই বাবা বিশ্বজিৎ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি তার ছেলের উচ্চ শিক্ষার সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে অনেকটা ভালো হয়। সেই পথ চেয়ে বসে রয়েছে অশ্রুসিক্ত ছল ছল চোখে বিক্রমজিতের বাবা বিশ্বজিৎ দাস সহ গোটা পরিবার।

এদিন তার বাড়িতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন সিরাত ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সম্পাদক ও শিক্ষক আবু সিদ্দিক খান , সন্দেশখালি সিরাত ইউনিটের সভাপতি ইজাজুল আকুঞ্জি( বাপি) ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক খান। সিরাত পরিবারের পক্ষ থেকে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন সিরাতের রাজ্য সম্পাদক ও সিরাত সন্দেশখালি ইউনিট। এদিন শিক্ষক আবু সিদ্দিক খান ও ইজাজুল আকুঞ্জি ( বাপি) সিরাত পরিবারের পক্ষ থেকে বিক্রমজিৎ এর হাতে তুলে দিলেন শংসাপত্র , স্মারক ,বই , কলম ও সামান্য নগদ অর্থ সহ একগুচ্ছ উপঢৌকন সামগ্রী।

এদিন আবু সিদ্দিক খান সাংবাদিকদের বলেন : ” আমি কষ্ট করেই পড়াশোনা করেছি। কেননা আমার বাড়ি সন্দেশখালির প্রত্যন্ত এলাকায়। এই কষ্ট আমি বুঝি। আজ বিক্রমজীৎ যেভাবে অসহায় পরিবারের বাড়ি থেকে উঠে এসেছে এটা খুবই প্রশংসনীয়। আমি চাই , সমাজের সুহৃদয় মানুষেরা মেধাবী বিক্রম জিৎ দাসের পাশে এসে দাঁড়াক উচ্চশিক্ষার আর্থিক সহায়তার জন্য”